Sunday, 29 September 2013

আধো-আলো-আঁধারের

আধো-আলো-আঁধারের কোন এক নগরের
মেস ঘরে থাকি চারজন
ট্রাম লরি টেম্পোরা শব্দের আলপনা
দিয়ে ঘিরে রাখে সারাখ’ন
রাত কিবা কিবা দিন ঘেমো ঘরে আলোহীন
ভৌতিক কেরাণীরা রই
আবছায়ে নড়িচড়ি থুতনিতে রুখু দাড়ি
এই কোলাহলে নিরজন

অজানা ইথার শরীর শুধুই দেওয়াল জুড়ে
কাটে সারাদিন সময়ের কঠিন করাত
নিশাচর ইঁদুরেরা ছিঁড়ে চলে দিনভরা রোদহীন ছায়ার বনাত
তবু সব শনিবারে তারা সব আসে ফিরে
ছাতে উঠে যায় চারজন
টিভির অ্যান্টেনা যেন বা মাছের কাঁটা
বেড়ালের তরে আয়োজন

শহর আলোয় উজল
ধোঁয়াশায় আকাশ পিছল
ছাদে এসে নামে ভীনগ্রহী ফ্লাইং সসার

শহর আলোয় উজল
ধোঁয়াশায় আকাশ পিছল
ছাদে এসে নামে ভীনগ্রহী ফ্লাইং সসার

জেনো সব কেরানীরা
এইভাবে ঘোরে তারা
পড়ে থাকে যতো অফিসার

এই সুরে বহুদূরে চলে যাবো

 এই সুরে বহুদূরে চলে যাবো, চলে যাবো-
পথ দেখাবো পথ দেখাবো
আসলে এসো না এই নতুনপুরে
আর ভাবনা নেই
আপনাতেই সুর ঝরাবো সুর ঝরাবো
সব ঝরাবো সব ঝরাবো
সবকিছু যা আছে পুরোনোতেই।

ফিরবো না পিছনে
আর অন্ধকারে
শব্দবিহীন শব্দের এই আঁধারে।

আর দেরি নয় দেরি নয়।
মন চলে মন চলে
ছাউনিতলে ছাউনিতলে
যেখানে পাবো ভোরের স্বপ্নজয়।

দৃশ্যমান মহীনের ঘোড়াগুলি

দৃশ্যমান মহীনের ঘোড়াগুলি

যে গেছে বনমাঝে চৈত্র বিকেলে
যে গেছে ছায়াপ্রাণ বনবীথিতলে
বন জানে অভিমানে গেছে সে অবহেলে
যে গেছে অশ্রুময় বন-অন্তরালে

আকাশে কেঁপেছে বাঁশিসুর
আঁচলে উড়েছে ময়ূর
চলে যাই বলেছিলে চলে যাই
মহুল তরুর বাহু ছুঁয়ে
যে গেছে অশ্রুময় বন-অন্তরালে

সে বুঝি শুয়ে আছে চৈত্রের
হলুদ বিকেল
যেখানে চূর্ণ ফুল ঝরে তার আঁচলে
যেখানে চূর্ণফুল ঝরে তার
কাফনে

আমার হিয়া কাঁপে

কাঁপে কাঁপে
আমার হিয়া কাঁপে

এ কি যে কান্ড
এ কি যে কান্ড
এ কি কান্ড সব পন্ড এ ব্রহ্মান্ড
শূণ্য লাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে
কাঁপে কাঁপে…….

কি যে ছাই চিন্তা
কি যে ছাই চিন্তা
কি ছাই চিন্তা ওহে কান্তা পোড়ে প্রাণটা
দুঃখ জাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে
কাঁপে কাঁপে……..

কপালটা মন্দ
কপালটা মন্দ
কপাল মন্দ লাগে ধন্দ কাটে ছন্দ
বিরহ রাগে
তুমি ছাড়া শূণ্য লাগে
কাঁপে কাঁপে…….

শিরে সংক্রান্তি
শিরে সংক্রান্তি
হে অশান্তি দাও ক্ষান্তি সব ভ্রান্তি
দূর হোক আগে
কফি ছাড়া শূণ্য লাগে
ক্যাফে ক্যাফে আমার প্রিয়া ক্যাফে

haay bhalobashi

ভালোবাসি জ্যোৎস্নায় কাশবনে ছুটতে
ছায়া ঘেরা মেঠোপথে ভালোবাসি হাঁটতে
দূর পাহাড়ের গায়ে গোধূলীর আলো মেখে
কাছে ডাকে ধান খেত সবুজ দিগন্তে

তবুও কিছুই যেন ভালো যে লাগেনা কেন
উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন
কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও

ভালো লাগে ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ভাসতে
প্রজাপতি বুনোহাঁস ভালো লাগে দেখতে
জানলার কোণে বসে উদাসী বিকেল দেখে
ভালোবাসি একমনে কবিতা পড়তে

যখন দেখি ওরা কাজ করে গ্রামে বন্দরে
শুধুই ফসল ফলায় ঘাম ঝরায় মাঠে প্রান্তরে
তখন ভালোলাগেনা লাগে না কোন কিছু
সুদিন কাছে এসো ভালোবাসি একসাথে আজ সব কিছু

ভালোবাসি পিকাসো বুনুয়েল দান্তে
বিট্‌ল্‌স্‌ ডিলান আর বেথোফেন শুনতে
রবিশঙ্কর আর আলি আকবর শুনে
ভালোলাগে ভোরে কুয়াশায় ঘরে ফিরতে

সংবিগ্ন পাখিকূল

রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ নেই শূন্যতা
আকাশে তখন থমকিয়ে আছে মেঘ
বেদনাবিধুর রাডারের অলসতা- কিঞ্চিৎ সুখী পাখীদের সংবেগ

এমন বিশাল বন্দরে বহুকাল
থামেনি আকাশবিহারী বিমান যান
এখানে ওখানে আগাছার জঞ্জাল
শূন্য ডাঙায় বায়ু বীতগতিবেগ
এমন ছবিতে কিশোরী মানায় ভালো
ফ্রকে মুখগুঁজে কাঁদে চুল এলোমেলো

চারণ দেখেছে এই ছবিখানি তাই
হৃদয়ে জমেছে শূন্যতা উড়ু মেঘ
চারণ ভোলেনা এই ছবিখানি তাই
বড় মায়া লাগে বড় তার উদ্বেগ

আকাশে তখন ঝড় এসে যাবে বলে
থমকিয়ে আছে মেঘ

মেরুন সন্ধ্যালোক

মেরুন সন্ধ্যালোক

দিন চলে যায় সন্ধ্যা বেলায়
বসে একা উদাস হাওয়ায়
যতো ভাবি সুর বন পথ দূর
সুবাসী বায়ে, মহুয়া মুকুল

বেঁকে গেছে পথ গভীর বনে
মাতাল করে বিহন জনে
ভেসে আসে গান সাঁঝুলি আলোয়
মহুয়া-মেদুর শিমুলিয়া সুর