Thursday 27 December 2012

আমার প্রিয় কলকাতা .......

বয়সটা অনেক বেড়ে গেল, আমার শহরটাকে আমি অনেক দিন ধরে দেখছি। শহরটা আমার কাছথেকে অনেক কিছু নিয়েছে যেমন আবার তার থেকে অনেক কিছু ভালো কিছু দিয়েছে,আমাকে চলতে শিখিয়েছে,আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছে, আমাকে ভালবাসতে শিখিয়েছে......।।
তাই হটাৎ করে আমার শহরটাকে নিয়ে লিখতে বসলাম...।

হটাৎ করে চলার শুরু,
হটাৎ করে জলকাদা
হটাৎ করে ভালোবাসা ,
আমার কলকাতা।

হটাৎ করে বৃষ্টি ভেজা ,
হটাৎ করে সানগ্লাস,
হটাৎ করে সূর্য ডোবা,
সোনা রোদে ফাস ক্লাস ।

হটাৎ করে চোখে জল,
হটাৎ করে traffic জ্যাম,
হটাৎ করে বইয়ের পাতায় ,
অন্ধকারে sreet lamp,

হটাৎ করে পালটে যাওয়া ,
হটাৎ করে ছাড়াছাড়ি।
হটাৎ করে উঁচু উঁচু ,
আকাশ ছোঁয়া বাক্স বাড়ি।
হটাৎ করে হোঁচট খাওয়া,
হটাৎ করে মনে পরা...।

আমার প্রিয় কলকাতা

Wednesday 5 December 2012

যদি পারো দু:খ দাও – শক্তি চট্টোপাধ্যায়


যদি পারো দু:খ দাও, আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি
দাও দু:খ, দু:খ দাও – আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি।
তুমি সুখ নিয়ে থাকো, সুখে থাকো, দরজা হাট-খোলা।

আকাশের নিচে, ঘরে , শিমূলের সোহাগে স্তম্ভিত
আমি পদপ্রান্ত থেকে সেই স্তম্ভ নিরীক্ষণ করি।
যেভাবে বৃক্ষের নিচে দাঁড়ায় পথিক, সেইভাবে

একা একা দেখি ঐ সুন্দরের সংশ্লিষ্ট পতাকা।

ভালো হোক মন্দ হোক যায় মেঘ আকাশে ছড়িয়ে
আমাকে জড়িয়ে ধরে হাওয়া তার বন্ধনে বাহুর।
বুকে রাখে, মুখে রাখে – ‘না রাখিও সুখে প্রিয়সখি!
যদি পারো দু:খ দাও আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি
দাও দু:খ, দু:খ দাও – আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি।
ভালোবাসি ফুলে কাঁটা, ভালোবাসি, ভুলে মনস্তাপ -
ভালোবাসি শুধু কূলে বসে থাকা পাথরের মতো
নদীতে অনেক জল, ভালোবাসা, নম্রনীল জল -
ভয় করে।”

যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো? – শক্তি চট্টোপাধ্যায়


ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো।

এতো কালো মেখেছি দু হাতে
এতোকাল ধরে!
কখনো তোমার ক’রে, তোমাকে ভাবিনি।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয়

যেতে পারি
যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
একাকী যাবো না অসময়ে।।

দ্বিখন্ডিত – তসলিমা নাসরিন


সে তোমার বাবা,
আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার ভাই,
আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার বোন,
আসলে সে তোমার কেউ নয়
সে তোমার মা,
আসলে সে তোমার কেউ নয় ।

তুমি একা

যে তোমাকে বন্ধু বলে, সেও তোমার কেউ নয় ।
তুমি একা।

তুমি যখন কাঁদো,
তোমার আঙুল
তোমার চোখের জল মুছে দেয়,
সেই আঙুলই তোমার আত্মীয়।

তুমি যখন হাঁটো,
তোমার পা
তুমি যখন কথা বলো,
তোমার জিভ
তুমি যখন হাসো,
তোমার আনন্দিত চোখই তোমার বন্ধু।

তুমি ছাড়া তোমার কেউ নেই
কোন প্রানী বা উদ্ভিদ নেই।

তবু এত যে বলো তুমি তোমার,
তুমিও কি আসলে তোমার ?

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা চিঠি – তসলিমা নাসরিন


প্রিয় রুদ্র,
প্রযত্নেঃ আকাশ,
তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুরে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগত্সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র। আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে – করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাটতে – হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।

আচ্ছা, তোমার লালবাগের সেই প্রেমিকাটির খবর কি, দীর্ঘ বছর প্রেম করেছিলে তোমার যে নেলী খালার সাথে? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন ! তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। কি অবুঝ বালিকা ছিলাম ! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন ট্রাকে করে তোমাকে নিয়ে গেলো বাড়ি থেকে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো। ঢাকা শহরটিকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। বুকের মধ্যে আমার এতো হাহাকারও আর কখনো জমেনি। আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্সভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আমাদের বিচ্ছেদ ছিলো চার বছরের। এতো বছর পরও তুমি কী গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে ! সেদিন আমি টের পেয়েছি।

আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার শ’য়ে শ’য়ে বন্ধু বেরোচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিলো? যখন পয়সার অভাবে তুমি একটি সিঙ্গারা খেয়ে দুপুর কাটিয়েছো। আমি না হয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে। এই যে এখন তোমার নামে মেলা হয়, তোমার চেনা এক আমিই বোধ হয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে বুঝিনা তারা তখন কোথায় ছিলো?

শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালোবাসতে। বিয়ের কথাও হচ্ছিলো। আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো ! তার গল্প শোনাচ্ছো ! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার ! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? তুমি শিমুলকে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে ! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হয়েছে। আমি বললাম, খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনোদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়।

আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন আকাশভরা জোত্স্নায় গা ভেসে যাচ্ছিলো আমাদের। তুমি দু চারটি কষ্টের কথা বলে নিজের লেখা একটি গান শুনিয়েছিলে। “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মংলায় বসে গানটি লিখেছিলে। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার? নেলী খালার? শিমুলের? অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এই চিঠি? জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।

ইতি,
সকাল

পুনশ্চঃ আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতোকাল ঐ ডাক শুনি না। তুমি কি আকাশ থেকে সকাল, আমার সকাল বলে মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি?

মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী


মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী


মেঘ বলতে আপত্তি কি ?
বেশ, বলতে পরি
ছাদের ওপোর মেঘ দাঁড়াতো
ফুলপিসিমার বাড়ি
গ্রীষ্ম ছুটি চলছে তখন
তখন মানে ? কবে ?
আমার যদি চোদ্দো, মেঘের ষোলো-সতেরো হবে
ছাদের থেকে হাতছানি দিতো
ক্যারাম খেলবি ? … আয় …
সারা দুপুর কাহাঁতক আর ক্যারম খেলা যায়
সেই জন্যেই জোচ্চুরি হয়
হ্যাঁ, জোচ্চুরি হতো
আমার যদি চোদ্দো, মেঘের পনেরো-ষোলো মত।

ঘুরিয়ে দিতে জানতো খেলা শক্ত ঘুঁটি পেলে
জায়গা মত সরিয়ে নিতো আঙ্গুল দিয়ে ঠেলে
শুধু আঙ্গুল ? … বোর্ডের উপর লম্বা ফ্রকের ঝুল
ঝপাং ফেলে ঘটিয়ে দিতো ঘুঁটির দিক ভুল
এই এখানে … না ওখানে ..
এই এইটা না ঐটা
ঝাঁপিয়ে পরে ছিনিয়ে নিলো ঘুঁটির বাক্সটা
ঘুঁটির ও সেই প্রথম মরন
প্রথম মরা মানে ?
বুঝবে শুধু তারাই … যারা ক্যারাম খেলা জানে।
চলেও গেলো কদিন পরে .. মেঘ যেমন যায়
কাঠফাটা রোদ দাঁড়িয়ে পড়ল মেঘের জায়গায়
খেলা শেখাও, খেলা শেখাও, হাপিত্যেস কাক
কলসিতে ঠোঁট ডুবিয়ে ছিলো, জল তো পুরে খাক
খাক হোয়া সেই কলশি আবার পরের বছর জলে …
ভরল কেমন তোমায় ? …
ধ্যাত্, সেসব কি কেউ বলে ? …
আত্মীয় হয় .. আত্মীয় হয় ? আত্মীয় না ছাই
সত্যি করে বল এবার, সব জানতে চাই
দু এক ক্লাস এর বয়স বেশি, গ্রীষ্ম ছুটি হলে
ঘুরেও গেছে কয়েক বছর, এই জানে সক্কলে
আজকে দগ্ধ গ্রীষ্ম আমার তোমায় বলতে পারি
মেঘ দেখতাম, ছাদের ঘরে, ফুলপিসিমার বাড়ি।

Udaan- poem


Chhoti-chhoti chhitrayi yaadein,
bichhi hui hain lamhon ki lawn par,
nange paer unpar chalte-chalte,
itni door chale aaye..
..ki ab bhool gaye hain,
joote kahan utaare the..

Aedi komal thi, jab aaye the,
thodi si naazuk hai abhi bhi,
aur nazuk hi rahegi,
in khatti-meethi yaadon ki shararat..
..jab tak inhe gudgudati rahe..

Sach, bhool gaye hain,
ki joote kahan utaare the,
par lagta hai,
ab unki zaroorat nahi...

Jab tak hai jaan ...poem


Teri aankhon ki namkeen mastiyan
Teri hansi ki beparwaah gustakhiyaan
Teri zulfon ki leharaati angdaiyaan
Nahi bhoolunga main
Jab tak hai jaan, jab tak hai jaan

Tera haath se haath chhodna
Tera saayon se rukh modna
Tera palat ke phir na dekhna
Nahin maaf karunga main
Jab tak hai jaan, jab tak hai jaan

Baarishon mein bedhadak tere naachne se
Baat baat pe bewajah tere roothne se
Chhoti chhoti teri bachkani badmashiyon se
Mohabbat karunga main
Jab tak hai jaan, jab tak hai jaan..

Tere jhoothe kasme vaadon se
Tere jalte sulagte khwabon se
Teri be-raham duaaon se
Nafrat karunga main
Jab tak hai jaan, jab tak hai jaan

— by Aditya Chopra

Piya tora kaisa abhimaan....gulzar poem


Kisi mausam ka jhonka tha 
jo is deewar par latki hui tasweer tirchi kar gaya hai

gaye sawan mein ye deewarein yun seeli nahin thi
na jane kyon is dafa inme seelan aa gayi hai,
dararein par gayi hain
aur seelan is tarah bahti hai jaise,
khushq rukhraron pe geele aanso chalte hain.

ye baarish gungunati thi isi chat ki munderon par
ye baarish gungunati thi isi chat ki munderon par
ye ghar ki khidkiyon ke kaanch par ungli se likh jaati thi sandese
girti rahti hai baithi hui ab band roshandano ke peeche.

dupehrein aisi lagti hain,
bina muhron ke khaali khaane rakhein hain
na koi khelne waala hai baazi
aur na koi chaal chalta hai

na din hota hai ab na raat hoti hai sabhi kutch ruk gaya hai
wo kya mausam ka jhonka tha
jo is deewar par latki hui tasweer tirchi kar gaya hai

There is a version in Hariharan's voice as well. That is haunting too. I liked the one in Shubha Mudgals voice better. It sounds more sad and just loved the effect it makes throughout the movie.

Hatz off to Gulzaar who can write such an awesome lyrics. Shubha Mudgal and Hariharan have sung too good as ever.

' Apne Nayan Se Neer Bahaaye
Apni Jamuna Khud Aap Hi Banaave.. 


Piya tora kaisa abhimaan....'

Friday 19 October 2012

সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

লাল ফিতে সাদা মোজা সু স্কুলের ইউনিফর্ম
ন’টার সাইরেন সংকেত সিলেবাসে মনোযোগ কম
পড়া ফেলে এক ছুট ছুট্টে রাস্তার মোড়ে, দেখে
সাইরেন মিস করা দোকানীরা দেয় ঘড়িতে দম
এরপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া
স্কুল বাসে করে তার দ্রুত চলে যাওয়া
এরপর বিষন্ন দিন বাজেনা মনোবীণ
অবসাদে ঘিরে থাকা সে দীর্ঘ দিন
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
সন্ধ্যা ঘনাতো যখন পাড়ায় পাড়ায়
রক থাকতো ভরে কিছু বখাটে ছোড়ায়
হিন্দি গানের কলি সদ্য শেখা গালাগালি
একঘেয়ে হয়ে যেত সময় সময়
তখন উদাস মন ভোলে মনরঞ্জন
দাম দিয়ে যন্ত্রনা কিনতে চায়
তখন নীলাঞ্জনা প্রেমিকের কল্পনা
ওমনের গভীরতা জানতে চায়
যখন খোলা চুলে হয়তো মনের ভুলে
তাকাতো সে অবহেলে দু’চোখ মেলে
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
অংকের খাতা ভরা থাকতো আঁকায়
তার ছবি তার নাম পাতায় পাতায়
হাজার অনুষ্ঠান প্রভাত ফেরীর গান
মন দিন গুনে এই দিনে আশায়
রাত জেগে নাটকের মহরায় চঞ্চল
মন শুধু সে ক্ষনের প্রতিক্ষায়
রাত্রির আঙ্গিনায় যদি খোলা জানালায়
একবার একবার যদি সে দাড়ায়
বোঝেনি অবুঝ মন নীলাঞ্জনা তখন
নিজেতে ছিলো মগণ এ প্রানপণ
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

সব আমাদেরই জন্য

গড়িয়াহাটার মোড়, মিনি মিনি বাস বাস,
বাসের টারমিনাসে, মন মরা সারি সারি
মুখ চোখ নাক হাত, রোগা রোগা চেহারার কনডাক্টার
সব আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
চৌরঙ্গীর আলো এবং লোড শেডিং,
পার্ক স্ট্রীট জমকালো, কাগজে হেডিং।
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
বেদম ট্র্যাফিক জ্যাম, ঠান্ডা স্যালামি হ্যাম,
চকলেট, ক্যাডবেরি, মাদার ডেয়ারী,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
বাজারের দরাদরি, রুটি ভাত তরকারি,
সা নি ধা পা মা গা রে সা মাদার টেরেসা,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
কুঁয়াশা কুয়াশা কাদা, ভোর বেলা গলা সাধা,
সারেগা রেগামা গামা গামাপা মাপাধা পাধা পাধানি ধানিসা–
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
ফুটবোর্ডে ঝুলে যাওয়া, অথবা লেডিজ সীট-
তাক্ করে উদাসীন, আকাশ কুসুম টিক্ টিক্-
টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যাজার মানুষ, খুচ্-খুচরো পয়সা নেই
আমাদেরই জন্য। নেই আমাদেরই জন্য।
সা গা পা ধানি ধানি পাধানি, সানিধা নিধা পাগা সাগা পাধানি,
বছরে তিরিশবার চিত্রাঙ্গদা আর শ্যামা
শাপ-মোচনের অশ্রু মোচন, আমাদেরই জন্য।
গাজনের ছয়লাপ, আধুনিক কিং খাপ,
কিং সাইজ ভজনের শিবের গাজন,
আমাদেরই জন্য।
সংস্কৃতির ঢাক, তে রে কে টে তাক্ তাক্
দমাদম দমাদম কৃষ্টি বিষম
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
পাতাল রেলের খাল, ভাঙাচোরা দিন কাল,
পদে পদে ঠোক্কোর, বকর বকর,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
আপিস কাছারি রাইটার্স বিল্ডিং ডিং
বিনয় বাদল দিন্ দিনেশের নাম ধার,
ধর্মতলার মোড়ে লেন দেন নিন দিন লেনিন
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
সুনীল গাঙ্গুলীর দিস্তে দিস্তে লেখা,
কত কবি মরে গেল চুপি চুপি একা একা,
আমাদেরই জন্য। শুধু আমাদেরই জন্য।
সিনথেসাইজারের টাপুর টুপুর
সুমন চাটুজ্যের এক ঘেয়ে সুব
নয় আমাদেরই জন্য। নেই আমাদেরই জন্য।
সত্যজিতের ছবি, শক্তির পদ্য,
লিট্ল্ ম্যাগাজিনের লেখা অনবদ্য।
গ্রুপ থিয়েটার আর একাদেমি সমাচার,
একুশে আইন আর গণেশ পাইন।
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
কেরানী ও অফিসার পাটোয়ার নেতা,
ফুটপাথে ছোটো বড় ক্রেতা বিক্রেতা,
বেশ্যা দালাল, টিকিধারী পুরোহিত,
ট্যাকসি চালক আর পুলিশের খিট্ মিট্
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
আমাদের জন্যেই ভোরের আকাশ,
লালচে পূবের কোণে আসে আশ্বাস।
আমাদের জন্যেই মিষ্টি সকাল,
নীলের গভীরে হাসে একা মহাকাল।
আমাদেরই জন্যেই বৃষ্টি এসেছে,
দারুণ প্রাণের টানে দুকুল ভেসেছে।
মৌমাছি খুঁজে মরে আমাদেরই মধু,
আকাশ ডাকছে আজ আমাদেরই শুধু।
সমুদ্রে ঢেউ ভাঙে আমাদেরই নামে,
শ্রমিকের দেহ ভেজে আমাদেরই ঘামে।
যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া,
জীবনের কথা বলা গানের মহড়া যেন
সব্বার জন্যে, সব্বার জন্যে।
আমরাই কলকাতা আজ আগামীর,
আমরাই গান গাই আমির তুমির,
ইট কাঠ কংক্রীট শ্যাওলা ময়লা,
প্রতিটি নতুন গান মাসের পয়লা।
আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর
তোমাকে শুনিয়ে আমি যাব বহু দূর।
ফিরেও আসবো আমি তোমার সুবাসে,
থাকবো তোমার বুকে আর আসে পাশে।
আমাকে পড়লে মনে খুঁজো এইখানে,
এখানে খুঁজছি আমি জীবনের মানে।

আকাশ ভরা সূর্য তারা

আকাশ ভরা সূর্য তারা
আকাশমুখী সারি সারি
কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া ঠাসাঠাসি বাক্স বাড়ি
এখান থেকেই চলার শুরু এখান থেকেই হামাগুড়ি
এখানটাতেই আমার বাসা
আমার বাড়ি ….
বারোতলার ওপর থেকে
বারো বছর কেটে গেছে
ইস্কুলটা যাওয়া ছাড়া নামা হয়না মাটির কাছে
শোবার ঘরের দেওয়ালটাময় হাঁস মুর্গী অনেক নাচে
তবু ওর লাল চোখের ভেতর কোথাও যেন কান্না ভাসে৷
সেখান থেকে একটু দূরে
একটুখানি এগিয়ে গেলে
একলা থাকেন নন্দীবাবু বন্দী সেও যে বয়সকালে
সংসারটার হাল ধরেছে বখাটে তার ছোট ছেলে
এক কাপ চা দিয়ে গেছে কখন জানি সাত সকালে
রেডিওটার ব্যাটারিটা হঠাত্ কবে গেল ক্ষয়ে
খাটের থেকে নামতে মানা
বুকের ব্যাথা গেছে সয়ে
নীলিমার মা তাই তো যে আর ভাবেনা আর সংসারটা নিয়ে
এঁদো গলির সেঁদো ঘরে সবই কেমন বয়ে গেছে
এখান থেকেই আটকে পরা এখানটাতেই ঘুরোঘুরি
এখানটাতেই আমার বাসা
আমার বাড়ি ….
চৌধুরীদের একুশ তলায় মদের নেশায় উঁচু গলায়
ঝগড়া চলে গভীর রাতে
লাজলজ্জার বাঁধ ভেঙ্গে যায়
কোর্ট কাছারি অনেক হল
হলনা যে ছাড়াছাড়ি
সম্পত্তি আঁকড়ে ধরে গভীর রাতের মারামারি৷
সেখান থেকে একটু দূরে পাড়ার মোড়টা একটু ঘুরে
অলিগলি পাকস্থলীর ভেতর কারা গুমড়ে মরে
বলি হল আরেকটা প্রাণ
মস্তানদের ছোরাছুরির
এখানটাতেই আমার বাসা
আমার বাড়ি সারি সারি ….
চিলেকোঠার বারান্দাটা বন্ধ কেন জানো কি তা?
এখান থেকেই লাফিয়ে পরে
লাহাবাড়ির অনিন্দিতা
গভীর রাতে তাইতো কেউ আর ওঠে না যে ওদের ছাদে
অন্ধকারের বন্ধ ঘরে কারা যেন ডুকরে কাঁদে
সেখান থেকে একটু দূরে ছদের পাঁচিলটা ঘুরে
এক চিলতে রোদ্দুরেতে ছোট্ট মেয়ে নামতা পড়ে
তাই তো কালো ইঁটের ফাঁকে বট পাতাটা জিভ ভ্যাংচায়
পাড়ার নেড়ি, বাচ্চাটাকে বুকে করে হাঁটতে শেখায়৷
এখানটাতেই আটকে পরা
এখানটাতেই ঘুরোঘুরি
এখানটাতেই আমার বাসা
আমার বাড়ি ….
আকাশ ভরা সূর্য তারা
আকাশমুখী সারি সারি
কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া
ঠাসাঠাসি বাক্স বাড়ি
এখান থেকে চলার শুরু এখানটাতেই হামাগুড়ি
এখানটাতেই আমার বাসা
তোমার ভালোবাসার বাড়ি৷
-অঞ্জন দত্ত

পেটকাটি চাঁদিয়াল

পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা।
বয়স বারো কি তেরো, রিকশা চালাচ্ছে,
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক ছেলেটাকে ডাকছে।
বয়স বারো কি তেরো, বড়জোর চোদ্দ,
রিক্শা চালাতে শিখে নিয়েছে সে সদ্য।
ছেলেটার মন নেই প্যাডেলে বা চাক্কায়,
ঐ তো লেগেছে প্যাঁচ চাঁদিয়াল বগ্গায়।
শান্ দেওয়া মানজায়, বগ্গা ভো কাট্টা।
ছেলেটা চেঁচিয়ে ওঠে “এই নিয়ে আটটা”।
সওয়ার বাবুটি ভাবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
বিচ্ছু ছোঁড়াটা বড় আস্তে চালাচ্ছে।
“ওই ছোঁড়া, আরে ওই ছোঁড়া ম’ল যা
আট্টা তো তোর কি ?”
সওয়ার বাবুটি দেন রেগে মেগে হুমকি।
বাবুর খ্যাঁকানি শুনে সম্বিত্ ফিরে পায়
ছেলেটা যে করে হোক রিক্শা চালিয়ে যায়।
এ কিশোর পারবে কি এই বোঝা টানতে ?
এই বাবু কোনো দিন পারবে কি জানতে ?
যে ছেলেটা প্রাণপণে রিক্শা চালাচ্ছে,
মুক্তির ঘুড়ি তাকে খবর পাঠাচ্ছে।
পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা
আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা।
পেটকাটি চাঁদিয়াল…

তোমাকে চাই

প্রথমত:, আমি তোমাকে চাই
দ্বিতীয়ত:, আমি তোমাকে চাই
তৃতীয়ত:, আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই

নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই
রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই
সন্ধের অবকাশে তোমাকে চাই

বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই
আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই
শ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই
অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই

কবেকার কলকাতা শহরের পথে
পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে
অগুন্তি মানুষের ক্লান্ত মিছিলে
অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে
নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই
এক ফোঁটা শান্তিতে তোমাকে চাই
বহুদূর হেঁটে এসে তোমাকে চাই
এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই

চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে
স্টেশন টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে
অচেনা ড্রয়িংরুমে চেনা অন্দরে
বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাদরে
ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে
কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে
হাসি রাগ অভিমানে ঝগড়া আপোসে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই
ডাইনে ও বাঁয়ে আমি তোমাকে চাই
দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই
না-বলা কথায় আমি তোমাকে চাই

শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে
হঠাত্ পড়তে বসা আবোলতাবোলে
অবোধ্য কবিতায় ঠুংরি খেয়ালে
স্লোগানে স্লোগানে ঢাকা দেয়ালে দেয়ালে

সলিল চৌধুরীর ফেলে আসা গানে
চৌরাশিয়ার বাঁশি মুখরিত প্রাণে
ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তর সুরে
কোন্ কবেকার অনুরোধের আসরে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
অনুরোধে মিনতিতে তোমাকে চাই
বেদনার আর্তিতে তোমাকে চাই
দাবীদাওয়া চাহিদায় তোমাকে চাই
লজ্জাদ্বিধায় আমি তোমাকে চাই
অধিকার বুঝে নেওয়া প্রখর দাবীতে
সারারাত জেগে আঁকা লড়াকু ছবিতে
ছিপছিপে কবিতার ছন্দে ভাষায়
গদ্যের যুক্তিতে বাঁচার আশায়
শ্রেণীহীন সমাজের চির বাসনায়
দিনবদলের খিদে ভরা চেতনায়
দ্বিধাদ্বন্দের দিন ঘোচার স্বপ্নে
সাম্যবাদের গান ঘুমে জাগরণে
বিক্ষোভে বিপ্লবে তোমাকে চাই
ভীষণ অসম্ভবে তোমাকে চাই
শান্তি অশান্তিতে তোমাকে চাই
এই বিভ্রান্তিতে তোমাকে চাই

কখনও সময় আসে জীবন মুচকি হাসে

কখনও সময় আসে জীবন মুচকি হাসে
ঠিক যেন প’ড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা
অনেক দিনের পর মিলে যাবে অবসর
আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু-আনা৷

আশা নিয়ে ঘর করি
আশায় পকেট ভ’রি
প’ড়ে গেছে কোন্ ফাঁকে চেনা আধুলি
হিসেব মেলানো ভার
আয়-ব্যয় একাকার
চ’লে গেল সারাদিন এল গোধূলি
সন্ধে নেবে লুটে
অনেকটা চেটেপুটে
অন্ধকারের তবু আছে সীমানা
সীমানা পেরোতে চাই
জীবনের গান গাই
আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু-আনা...

দশ ফুট বাই দশ ফুট

তক্তোপোষ বা মেঝেতে বিছানা, দড়িতে লুঙ্গি শাড়ি তিনখানা,
তারি এক পাশে পড়ে আধখানা, বেওয়ারিশ বাসি বিস্কুট।

দরজায় আছে নম্বর লেখা, তাই দেখে দেখে ঠিকানাটা শেখা।
যদিও বাসার আসল ঠিকানা, দশ ফুট বাই দশ ফুট।

জনা চারেকের বাসা এই ঘরে, পাঁচ জন হবে কিছুদিন পরে,
ঘ্যাঁশা ঘ্যাঁশি করে গায়ে গায়ে শুধু কুট্ কুট্।

দরজায় আছে নম্বর লেখা, তাই দেখে দেখে ঠিকানাটা শেখা।
যদিও বাসার আসল ঠিকানা, দশ ফুট বাই দশ ফুট।

খাওয়া বসা ঘুম একই যায়গায়, ছেলে মেয়ে দেখে আধো তন্দ্রায়,
বয়স্ক দুই দেহ মিলে যায়, আঁধার ঘনালে ঘুট্ ঘুট্।

দরজায় আছে নম্বর লেখা, তাই দেখে দেখে ঠিকানাটা শেখা।
যদিও বাসার আসল ঠিকানা, দশ ফুট বাই দশ ফুট।

রান্নাঘরটা খোঁড়া অজুহাত, ঘরণী সেখানে ছড়িয়েছে ভাত।
আরশোলাদের খুলেছে বরাত, রাতে ইঁদুরের খুট্ খুট্।

দরজায় আছে নম্বর লেখা, তাই দেখে দেখে ঠিকানাটা শেখা।
যদিও বাসার আসল ঠিকানা, দশ ফুট বাই দশ ফুট।

ছেলে বড় হয়ে বেকারীর গ্লানি, মেয়ে করে প্রেম বৃথা হয়রানি।
প্রেমিকের আছে টো টো কোম্পানি, শনিবার তারা দেয় ছুট্।

ছুটবে কোথায় প্রেম তাল কানা, গোপনীয়তার নেই মালিকানা।
এই প্রেমিকেরও আসল ঠিকানা, দশ ফুট্ বাই দশ ফুট্।

Ferari Mon......(Antaheen)

আলো আলো রং জমকালো চাঁদ ধুয়ে যায়
চেনাশোনা মুখ জানাশোনা হাত ছুয়ে যায়
ফিরে ফিরে ঘুম ঘিরে ঘিরে গান রেখে যায়
কিছু মিছু রাত পিছু পিছু টান ডেকে যায়
আজও আছে গোপন ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

চেনাশোনা মুখ জানাশোনা হাত রেখে যায়
ফিরে ফিরে ঘুম ঘিরে ঘিরে গান ডেকে যায়
আজও আছে গোপন ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

ছোট ছোট দিন আলাপে রঙীন নুরিরী মতন
ছোট ছোট রাত চেনা মৌতাত
পলাশের বন
অগোছালো ঘর খরকুটোময়
চিলেকোঠা-কোন

ছোট ছোট দিন আলাপে রঙীন নুরিরী মতন
ছোট ছোট রাত চেনা মৌতাত
পলাশের বন
অগোছালো ঘর খরকুটোময়
চিলেকোঠা-কোন
কথা ছিল হেটে যাবো ছায়াপথ

ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

কিছু মিছু রাত পিছু পিছু টান অবিকল
আলো আলো রং জমকালো চাঁদ ঝলমল
আজও আছে গোপন ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

গুড়ো গুড়ো নীল রং পেন্সিল জোছনার জল
ঝুর ঝুর কাঁচ আগুন ছোয়াচ ঢেকেছে আঁচল
ফুটপাতে ভির জাহাজের ডাক ফিরে চলে যায়
গুড়ো গুড়ো নীল রং পেন্সিল জোছনার জল
ঝুর ঝুর কাঁচ আগুন ছোয়াচ ঢেকেছে আঁচল
ফুটপাতে ভির জাহাজের ডাক ফিরে চলে যায়
কথা ছিল হেটে যাবো ছায়াপথ
আজও আছে গোপন ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

আলো আলো রং জমকালো চাঁদ ধুয়ে যায়
চেনাশোনা মুখ জানাশোনা হাত ছুয়ে যায়
আজও আছে গোপন ফেরারী মন
বেজে গেছে কখন সেই টেলিফোন

ক্যালসিয়াম

ডাক্তার বলছে ক্যালসিয়াম টা কম
টিউটর বলছে অঙ্কটা কমজোরি
ছটকা বলছে ধুরছাই নেই তোর দম
আম্মা বলছে আচার গেছে চুরি
পিসি বলছে বকে গেছে ছেলেটা হিন্দি ছবি দেখে
দিদি বলছে ভীষণ unsmart
দাদু বলছে সময়টা গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে পেদিয়ে উল্কাত
ছাদের পাঁচিল বলছে আয়ে ছুটে আয়ে খালি পায়ে
আকাশ বলছে গলা খুলে গা

ঝিগির ব্যাম ঝিগির ব্যাম ব্যাম ব্যাম

মা বলছে দুধ টা একদম মুখেই তুলছে না
হরলিক্স বলছে এমনি এমনি খাও
আনটি বলছে আগে এতটা careless ছিলনা
বাবা বলছে জাহান্নুমে জাও
পাশের বাড়ির বউদি বলছে আঁকার স্কুল এ দিন না
মামা বলছে স্পকেন ইংলিশ weak
দাদু বলছে সময়টা গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে পেদিয়ে উল্কাত
ছাদের পাঁচিল বলছে আয়ে ছুটে আয়ে খালি পায়ে
আকাশ বলছে গলা খুলে গা

ঝিগির ব্যাম ঝিগির ব্যাম ব্যাম ব্যাম

সুমন বলছে পারো যদি অন্য ছবি দেখো
টিনটিন বলছে চল antartika
টিভি বলছে বল i am a complaint boy
আঞ্জন বলছে টিভি দেখনা
তোপসেটাই বা কেন লেখা বন্ধ করে দিল
ফেলুদা কিছুই বলছে না
দাদু বলছে সময়টা গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে পেদিয়ে উল্কাত
ছাদের পাঁচিল বলছে আয়ে ছুটে আয়ে খালি পায়ে
আকাশ বলছে গলা খুলে গা

ঝিগির ব্যাম ঝিগির ব্যাম ব্যাম ব্যাম

Bhalobasa.....(Parash Pathar)

ভালবাসা মানে ধোয়া ছারার প্রতিশ্রুতি |
ভালবাসা মানে এলোচুল মাতয়ারা |
ভালবাসা মানে সময় থামার আগে,
ভালবাসা তোমার শুরু, আমার সারা |
ভালবাসা মানে আর্চিস গ্যালারী |
ভালবাসা মানে গোপন গোপন খেলা |
ভালবাসা মানে কান্নাভেজা চোখে |
ভালবাসা মানে নীলখামের ভেলা |
ভালবাসা মানে আগাম চলার সুর |
ভালবাসা মানে অবিরাম চলাবসা |
ভালবাসা মানে আখিপল্লব ছুয়ে,
চিনতে শেখা শেষ রেকাবির ভাষা |
ভালবাসা মানে দূরভাষ নিশ্চুপে,
শুনে ফেলে অনুভূতির হাসি |
ভালবাসা নান্দনিক যাতায়াতে ,
ভালবাসা মানে চৌরাসী আর বাঁশি |

অন্ধকারের পরে

অন্ধকারের পরে বন্ধ দরজা খুলে সূর্যটা ঠিক উঠে যায়
কান্না পেতে পেতে হঠাৎ করে বন্ধুটা ঠিক জুটে যায়
হাতটা বাড়াই তাই তোমার দিকে ডাকি জপসা চোখে তোমায়
তুমি হাতটা তোমার দাও হাতটা তোমার হাতটা তোমার আমায়

সাদা কালো রাত ফিকে হয় যে হঠাৎ যায় যন্ত্রণা হারিয়ে কোথায়
বেসুরো কথা গুলো ছাড়তে ছাড়তে ধুলো হঠাৎ ই গান খুঁজে পায়
কেটে যায় ঘুম ঘোর নতুন একটা ভোর আসে আমার জানলায়
তুমি সুরটা তোমার দাও সুরটা তোমার সুরটা তোমার আমায়

চেনা অচেনায় নানা গোলক ধাধায় মন আমার পথটা হারায়
মনের কথা নিয়ে একা একা ঘুরে মরি ক্লান্ত একলা রাস্তায়
হঠাৎ এসে তুমি পাশে দাড়াও আসে নতুন স্বপ্ন পায়ে পায়ে
আমি খুজছি যাকে ঠিক পাই যে তাকে আমি খুঁজে পাই ঠিকই আমায়  .......

Thursday 18 October 2012

নিছক-ই দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম

যখন শিরায় শিরায় ছোটে দিওয়ানা নুনে নুন খুন,
অর্থাৎ শিরাতে শিরাতে অন্তঃপীড়াতে পোড়ে আগুন !
অন্তঃসার শূন্য খাঁচার, মধ্যে বাঁচার,
পাকার এবং কাঁচার নিয়ম কানুন,
নেহাতই দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম !
আসলে অন্তর আমার ঠুনকো ঠুনকো বেডরুম !

হতে পারো কিরণমালা কিংবা অরুন-বরুণ,
হও বৃদ্ধ-প্রৌঢ, হামা বা দৌড়ো , কিশোরী তরুণ !

শহরের গল্প হোক না
হাসির খুশির, লাথির ঘুষির
বা ছলছলে বিষাদ-করুণ !

নিছক-ই দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম !
ছায়া ফেলে অন্তঃস্থলে, উসকো খুসকো বেডরুম !

চোখে আর জিভে জড়াচ্ছে ঘুম,
নখে আর বুকে ছড়াচ্ছে ঘুম !

এসব-ই দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম !
আসলে দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম !
নিছক-ই দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম !

চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন

চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন আর কবিতায় শুয়ে couplet
আহা উত্তাপ কত সুন্দর তুই thermometer -এ মাপলে

হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল ( nostal -gia ) , মিঠে কুয়াশায় ভেজা আস্তিন
আমি ভুলে যাই কাকে চাইতাম আর তুই কাকে ভালোবাসতি

 চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন....

প্রিয় বন্ধুর পাড়া নিরঝুম, চেনা চাঁদ চলে যায় রিক্সায়
মুখে যা খুশি বলুক রাত্তির , শুধু চোখ থেকে চোখ দিক সায়

পায়ে ঘুম যায় একা ফুটপাথ ওড়ে জোছনায় মোরা প্ল্যাস্টিক ,
আমি ভুলে যাই কাকে চাইতাম আর তুই কাকে ভালোবাসতি

চল রাস্তায় সাজি ট্রাম লাইন.....

পোষা বালিশের নিচে পথঘাট, যারা সস্তায় ঘুম কিনতও
তারা কবে ছেড়ে গেছে বন্দর, আমি পালটে নিয়েছি রিংটোন

তবু বারবার তকে ডাক দিই একি উপহার নাকি শাস্তি
তবু বারবার তকে ডাক দিই একি উপহার নাকি শাস্তি
আমি ভুলে যাই কাকে চাইতাম আর তুই কাকে ভালোবাসতি......

জানি দেখা হবে....

মেলেছো চোখ, উড়েছে ধুলো,
দুরের পালক তোমাকে ছুলো
তবু আজি আমি রাজি
চাঁপা ঠোঁটে  কথা ফোটে
শোনো .....আমাকে রাখো চোখের কিনারে.... গোপন মিনারে ....

Jo wada kiya woh nibhaanaa padhega
Roke zamana chaahe roke khudaaii
Tumko aana padhega !

ঘুম ভেঙ্গে কিছু মেঘলা দিন হোক
ওড়নার পাশে সেফটি -পিন ও হোক
বিকেলের নাম Al Pacino হোক
খেয়ালি ছাতে !

কফি কাপে একা ঠোঁট ছোয়ানো দিন,
চুপি চুপি কেঁদে  রোদ পোহানো দিন,
ভালো হয় যদি সঙ্গে আনো দিন
যে কোনো রাতে !

জানি দেখা হবে....ঠোঁটের ভেতরে ...ঘুমের আদরে ...

চকমকি মনে মন জ্বালাতে চাই
দিনে ব্যালকনি , বৃষ্টি রাতে চাই
পিছুডাকে ঘুম সাজাতে চাই
বিছানা ঘিরে ...

ছোট lamp-shade অল্প আলো তার
চুল খুলে কে রূপ বাড়ালো তার
তুমি বোঝো নাকি মন্দ ভালো তার
যেও না ফিরে...

জানি দেখা হবে.... রাতের সোহাগে ...তোমার পরাগে

মেলেছো চোখ, উড়েছে ধুলো
দুরের পালক তোমাকে ছুলো
তবু আজি আমি রাজি
চাঁপা ঠোঁটে  কথা ফোটে
শোনো .....আমাকে রাখো চোখের কিনারে.... গোপন মিনারে ....

Jo wada kiya woh nibhaanaa padhega
Roke zamana chaahe roke khudaaii
Tumko aana padhega !

শুভেচ্ছা- হুমায়ুন আজাদ

শুভেচ্ছা
(হুমায়ুন আজাদ)

ভালো থেকো ফুল
মিস্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান,
ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।

ভালো থেকো মেঘ,
মিটি মিটি তারা,
ভালো থেকো পাখি,
সবুজ পাতারা, ভালো থেকো।

ভালো থেকো চড়,
ছোট কুঁড়ে ঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল,
আকাশের নীল, ভালো থেকো।

ভালো থেকো পাতা,
ভালো থেকো জল,
ভালো থেকো গাছ, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

ভালো থেকো রোদ,
ভালো থেকো ঘাস,
ভোরের বাতাস, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

আমার রাস্তা আমার বাড়ি - অঞ্জন দত্ত

আমার রাস্তা আমার বাড়ি - অঞ্জন দত্ত, নিমা রহমান

আমার রাস্তা আমার বাড়ি ..আমার ফাটা দেয়াল
আমার পোড়া মনের অজস্র জঞ্জাল

ভাঙছে কেবল ভাঙছে..শুধু যাচ্ছে ক্ষয়ে ক্ষয়ে
আমার রাত্রি আমারই সকাল

একই ভাবে ঘামতে ঘামতে..মনের ভেতর নামতে নামতে
কোনমতে করছি দিনটা পার

চলছে চলবে..চলছে চলবে ..এই ভাঙাচোরা গল্পটা আমার

নাকে আমার পোড়া পিচের গন্ধ..বুকে কালো ধোঁয়া
হাতে-পায়ে শুধুই অবক্ষয়
তবু কাশতে কাশতে..এখনও যে হাসতে পাড়ি ভালোবাসতে
নিজের কাছে নিজেরই বিস্ময়

করবো যে আর কত ঘেন্না নিজেই নিজের ছায়াটাকে
করবো যে আর কত অপমান
আবার তো সেই আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে নিজের নরকটাকে
গাইবো আমি ভালোবাসার গান

এসো আমার ঘরে একবার
তুমি এসো আমার ঘরে একবার

পারো যদি দেখে যেও বেঁচে থাকা কারে বলে
এসো আমার শহরে একবার.............

আদরের নৌকো- চন্দ্রবিন্দু

আদরের নৌকো
ভেসে যায় আদরের নৌকো
তোমাদের ঘুম ভাঙে কলকাতায়
হ্যালোজেন বৃষ্টিতে
রং লিখে ঘর পাঠায়
ভিকিরিরা স্বপ্ন পায়
তুষারের রাজধানী ধুয়ে যায় জ্যোৎস্নায়

ধুয়ে যায় আদরের পথ-ঘাট
ভেসে যায় আরামের অঞ্চল
রেলিংয়ের ঘুম ঘোরে
টুপ করে কাঁদলো জল
ডানা ভাঙা একলা কাক
পথ ভেসে থাক একলাটি থাক

এ জন্মের রেলগাড়িরা যায়
জলপরী হোক ধুলো হাওয়ায়
হাওয়া কে এসে আঁকে তার ডানায়
এই নরম চুল ধুলোর ফুল
যায় ভেসে যায়

ভেসে যায় আদরের নৌকো
ভেসে যায় সোহাগের সাম্পান
সিগারেট টুকরোরা মুখচোরা শিখছে স্নান
নুড়ি ঘেরা বালির স্তুপ
জোনাকির রূপ বুকে নিয়ে চুপ

———————-
ব্যান্ড – চন্দ্রবিন্দু
এ্যলবাম – চ

তিস্তানে...

পাঁচ টাকা দিয়ে দিনের শুরু, ষোল টাকা দিয়ে শেষ
তিন টাকা দিয়ে মুক্তি কিনে হবো নিরুদ্দেশ

পাঁচ টাকা দিয়ে দিনের শুরু, ষোল টাকা দিয়ে শেষ
তিন টাকা দিয়ে মুক্তি কিনে হবো নিরুদ্দেশ
তখন কেন হাত বাড়ালে, এখন কেন চুপ?
তখন কেন জ্বাললে আলো, এখন পোড়াও ধূপ?
আর এখন তুমি নিচ্ছো অন্যরূপ।

আর এখন almost পাগল এ মন
বিষ পানে অভ্যস্ত এ জীবন
শূন্য দু’হাত, আবার চাইছে
ফিরিয়ে নিয়ে চলো.....
তিস্তানে... তিস্তানে...... তিস্তানে......

মাসটা যখন ফুরিয়ে যাবে, ওরা দেবে অনেক টাকা;
তবু মাসের শেষে মনে হবে ভেতরটা খুব ফাঁকা।
সময় যখন আটকে রাখবে সময় চলবেনা
যখন সময় অনেক দরকার সময় থাকবেনা
তখন সময় তোমার পাশে নেই।

আর এখন almost পাগল এ মন
বিষ পানে অভ্যস্ত এ জীবন
শূন্য দু’হাত আবার চাইছে
ফিরিয়ে নিয়ে চলো.....
তিস্তানে... তিস্তানে...... তিস্তানে......

♫ ______♫_____♫______♫ ______♫_____♫______♫
যখন বলেছিলাম আমি চলে যাবো, তখন কেন কাঁদোনি?
একের পর এক ভুল করেছি, তবু কেন আটকাওনি?
যতক্ষণ তুমি জিতছো, প্রত্যেকটা মানুষ তোমার সাথে
তুমি একবার হেরে যাও, আর কেউ নেই তোমার পাশে!
♫ ______♫_____♫______♫ ______♫_____♫______♫

তখন কেন হাত বাড়ালে, এখন কেন চুপ?
তখন কেন জ্বাললে আলো, এখন পোড়াও ধূপ?
আর এখন তুমি নিচ্ছো অন্যরূপ।

আর এখন almost পাগল এ মন
বিষ পানে অভ্যস্ত এ জীবন
শূন্য দু’হাত, আবার চাইছে
ফিরিয়ে নিয়ে চলো.....
তিস্তানে...... তিস্তানে...... তিস্তানে......

অন্য কোথাও চল |

আমার শহরে শুকিয়ে যাচ্ছে জল |
আস্তে আস্তে লুকিয়ে যাচ্ছে জল |
ফুরিয়ে আসছে স্নান করবার দিন |
অন্য কোথাও চল |


কাঠফাটা হাসি উপহার কি রঙিন,
এলো শেষমেষ সেলোফেনে মোড়া দিন |
চেনা অজুহাত বাহানা কেনার ছল,
আমার শহরে শুকিয়ে যাচ্ছে জল |
অন্য কথাও চল |


আমার শহরে সাঁতার শিখতে চেয়ে,
রাজধানী থেকে একলা এসেছে মেয়ে |
এসে দেখে ধুঁ ধুঁ কংক্রিট অঞ্চল |
অন্য কোথাও চল |

জল ফড়িং !

তুই চিরদিন তোর দরজা খুলে থাকিস,
অবাধ আনাগোনার হিসেব কেন রাখিস ?
সাক্ষাৎ আলাদিন তোর প্রদীপ ভরা জিনে,
কেন খুঁজতে যাস আমায় সাজানো মাগাজিনে ?

ভেজা রেলগাড়ি হয়তো সবুজ ছুঁয়ে ফেলে,
আর সারাটা পথ ভীষণ খামখেয়ালে চলে !
তারপর বেরোয় মেঘ আর তারায় ভরা স্টেশন ,
একটু থামতে চায় প্রেমিকের ইন্সপিরেশন !

তোর এ সকাল ঘুম ভেঙ্গে দিতে পারি !
তোর এ বিকেল ঘুড়ি ছিঁড়ে দিতে পারি !
তোকে আলোর আলপিন দিতে পারি !
তোকে বসন্তের দিন দিতে পারি !

আমাকে খুঁজে দে জল ফড়িং !

ছুঁড়ে ফেলে দে তোর গল্প বলা ঘড়ি,
শূন্যে খুড়োর কল , সব মিথ্যে আহামরি !
একটু শুনতে চাই তোর পাঁজর ভাঙ্গা চিৎকার,
অন্য গানের সুর, তোর অদ্ভুত এ অহংকার !

তোর এ সকাল ঘুম ভেঙ্গে দিতে পারি !
তোর এ বিকেল ঘুড়ি ছিঁড়ে দিতে পারি !
তোকে আলোর আলপিন দিতে পারি !
তোকে বসন্তের দিন দিতে পারি !

আমাকে খুঁজে দে জল ফড়িং !

Imagine- John Lennon

Imagine there's no heaven
It's easy if you try
No hell below us
Above us only sky
Imagine all the people living for today

Imagine there's no countries
It isn't hard to do
Nothing to kill or die for
And no religion too
Imagine all the people living life in peace

You, you may say
I'm a dreamer, but I'm not the only one
I hope some day you'll join us
And the world will be as one

Imagine no possessions
I wonder if you can
No need for greed or hunger
A brotherhood of man
Imagine all the people sharing all the world

You, you may say
I'm a dreamer, but I'm not the only one
I hope some day you'll join us
And the world will live as one

                                                                         John Lennon

Tumi nei tai........(Cross Connection, Anjan Dutta)

সেই ট্রাম বাস রাস্তাঘাট,
সেই রাস্তার দোকানপাট |
লাগছেনা যে সেই আজকে হঠাথ |
আজ হটাথ স্তব্ধ গড়ের মাঠ |
শান্ত ব্যস্ত বাজারঘাট |
কোথায় হারিয়ে গেল কোলকাতা |
তুমি নেই সব যেকে সেই সব,
সব আছে, সবই আছে তবু নেই |
রং হয়েগেল ঘোলাটে |
এই শহরের মলাটে আজ |
সব কিছুই বড় অযথা |
ছিল ঝন্ঝাট, ছিল উচ্ছাস |
ছিল হতাশা, ছিল বিশ্বাস |
আজ সবকিছু নিদারুন সাদাকালো |
আজ পকেট ভরা শূন্যতা |
হৃদয়ে বড় দৈন্যতা |
শহর আমার গরিব হয়ে গেল |


চেনা পথঘাট অচেনা,
চেনা চেনা মুখ অজানা |
আজ হটাথ সবকিছুই এলোমেলো |
রং হয়েগেল ঘোলাটে, এই শহরেরে মলাটে |
কোথায় হারিয়ে গেল কোলকাতা |
নেই ঝন্ঝাট ভরা দিনটা |
নেই হাজার গন্ডা চিন্তা |
ছিল শহর আমার বড়ই আত্মহারা |
ছিল রোজকার অশান্তি |
তবু ছিলনা কোনো ক্লান্তি |
ছিলনা আমার মনটা দিশেহারা |

আছে দুচোখ ভরা ক্লান্তি,
আছে ওপর অপর শান্তি,
ভিতরে শুধু জমাট হতাশা |

শুধু ফেরা পথ টুকু ঘেরা পথ টুকু সেরা পথ হয়ে থেকে যাক......।।

ঝরে ঝরে পরে ছিপছাপ শুকনো পাতার স্তুপ ,
কবে যান কাকে চিনতাম ডাকবাক্সেরা চুপ,
পিছু পিছু ডাকা সার্সিতে আঁকা চুপ করে থাকা বন্ধু ,
পিছু পিছু ডাকা সার্সিতে আঁকা চুপ করে থাকা বন্ধু  ,
স্বপ্নের স্টলে লন্ঠন জ্বলে,
গল্পেরা চলে কোন দূর রাস্তাফেলে ,

শুধু ফেরা পথ টুকু ঘেরা পথ টুকু সেরা পথ হয়ে থেকে যাক
 আজ বিকেলে ......।

দেখো কুয়াশার নেই ডাকনাম তবু চশমার চোখে বাষ্প ,
মিঠে রোদ্দুর চায়ে রেলিঙের সায়ে একদিন নিতে আসবো ,
তবে জানিনা ,তবে জানিনা,

শুধু ফেরা পথ টুকু ঘেরা পথ টুকু সেরা পথ হয়ে থেকে যাক
আজ বিকেলে ............।।

দেখো হাত থেকে হাত কাঁচ ঘুম যেন শিত চলে গেছে পরশু ,
যদি দেখা হয়ে যায় চেনা রাস্তায় ফিরে যেতে চায় মরসুম ,
কেন জানিনা, কেন জানিনা,

শুধু ফেরা পথ টুকু ঘেরা পথ টুকু সেরা পথ হয়ে থেকে যাক
 আজ বিকেলে......।।




অবশেষে............।।

Monday 20 August 2012

Jhul baranda...

sei jokhon sokal bela chayer plate hate..

dhariye thak tam amar prio jaygay..

tumio darate khali hate amar gaygay...

tomar buke tokhon anondo makha chap....

amader niche diye hete jeto manuser sari...

ar tar tolay dora kata dag..

tomar ragjorano lal alota...

somosto bas thamiye dito...

tokhon sobuj hese oder biday dite...

sei rag r hasi na mana ek jontro venge dilo spondota....

ami r tumi tokhon nirbak dorsok.....

r songe amar prio jhul baranda....

Bristi...

Ajabar bisti holo.. 

jome thaka onek dhulo.... 

moner jora pata gulo.... 

hoyay uriye niye gelo.... 

soda gondho charidik choralo... 

uthoneo kichu jol daralo.... 

vijlo rasta vijlo chad .. 

vijlo sorir vijlo kak... 

janla diye barano haat duto o vije gelo..... 

aj abar bristi holo... 

Thak na......


Thak na dhormotolay malgari...

Thak na somosto station e lalgari...

Dadur purano gorgori..

Thak na almari te tola thak...

Jak na chok jedike jay..

Mon amar tomake chay...

Kotha ta buk kure kure khay....

Bole dao onno jon ache opekhay...

Dhek mon charipas ta dhek na...

Valo kore tor paser janla...

Ami jani dekte pabina....

Loadseding e caripas ta ondhokar.......

Asha.........

ektu somay ektu dhulo...

ektu sopno tomay chulo..

ektu dhoya ektu akas...

ektu hasi orano batas...

ektu jayga amader aasa...

tomar sudhu flat bari r valobasa...

ektu jomi chotto bagan ..

chotto amar tomar ghor...

ektu dhukho ektu hasa...

prithibita abar sundor hok...

etai amader ektu aasa r ovilasa...

Monkharap Kora Kobita....


aj raat e khub bristi hoche.....
akhas kadche na hasche bujte parchi na...
abisranto brisrir sobdo i kane asche...
hridoy nachar poribhorte kharap hoye jache..

 onek kotha mone porche....


chotto belay meagh korle chute chole astam..
tokhon bristi k khub voy korto....
aste aste se voy katiye othagelo....
bristi amader vijiye ghaseder vijiye porisranto hoto.....


ekhon r sei ghas vora mat dekha jay na...
jara bristir fota gulo mathay kore dariye thakto...
amra paa vejatam.....
sobai mile kaday lutoputi khetam....
bari asle bokunio khete hoto....


sei math r nei...
kichu subidha badi dustu lok hatiye niyeche...
uchu uchu bakso bari hoyeche....
sekhane aj bakso bondi amra sobai....
ekhon google amader akhas dekhay....
facebook er dippunje e amra kotha boli....
barir paser lok friend request pathay....
ekhon mobile google har maniyeche boka bakso k...
har maniyeche somay k, nirsongota k....
har maniyeche oi ghas gulo k....
har maniyeche bachagulor pran khola hasi k....
abar onek kotha bolte sikhiyeche....
sat somudro pare thaka bondhuto patiyeche....

tobuo fele asa din gulo kalo megher moto ese ghire dhoreche...
baireo bristi ekhono hoche....
vitoreo bristi hoye jabe......

Sunday 19 August 2012

শহরের উষ্ণতম দিনে


শহরের উষ্ণতম দিনে
পিচ গলা রোদ্দুরে
বৃষ্টির বিশ্বাস
তোমায় দিলাম আজ।

আর কিই বা দিতে পারি
পুরনো মিছিলে পুরনো ট্রামেদের সারি
ফুটপাত ঘেঁষা বেলুন গাড়ি
সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা
ওরাই আমার থতমত এই শহরের
রডোডেনড্রন
তোমায় দিলাম আজ।

কি আছে আর
গভীর রাতের নিয়ন আলোয়
আলোকিত যত রেস্তোঁরা আর
সবথেকে উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িটার সবথেকে উঁচু ছাদ
তোমায় দিলাম আজ।

পারব না দিতে
ঘাসফুল আর ধানের গন্ধ
স্নিগ্ধ যা কিছু দুহাত ভরে আজ
ফুসফুস খোঁজে পোড়া ডিজেলের আজন্ম আশ্বাস
তোমায় দিলাম আজ।

শহরের কবিতা আর ছবি, সবই
তোমায় দিলাম আজ।

আর কিই বা দিতে পারি
পুরনো মিছিলে পুরনো ট্রামেদের সারি
ফুটপাত ঘেঁষা বেলুন গাড়ি
সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা
ওরাই আমার থতমত এই শহরের
রডোডেনড্রন।

তোমায় দিলাম, তোমায় দিলাম , তোমায় দিলাম
তোমায় দিলাম, তোমায় দিলাম , তোমায় দিলাম

বলা বারণ...

কেন এমন, কবে হঠাৎ, কিসের হাওয়া, তখন বিকেল |
বলা বারণ |
কি অজুহাত, কোন্ সে রঙিন, কখন্ আঘাত, জলের আড়াল |
বলা বারণ |


কে জাগে রাত, বেলা প্রহর, পোড়ো বসত, ঠিকানা তোর |
চেনা দু'চোখ, চেনা পালক, চিনি কি ঘর, স্বয়ম্বর |


কেন শরীর, কেমন হাওয়া, আরশিমহল, কাকে পোড়ায় |
বলা বারণ |
দুরের স্টীমার, আলোর তারিখ, নিজে মানুষ, কি যে কখন |
বলা বারণ |


জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত |


চুল ঢাকে ঘুম, ভুল করিডর, কে পলাতক, নীলচে সময় |
বলা বারণ |
কোন্ সে রাখাল, বিষাদ চরায়, হঠাৎ কখন, হাইওয়ে বাঁশি |
বলা বারণ |


কে জাগে রাত, বেলা প্রহর, পোড়ো বসত, ঠিকানা তোর | 
চেনা দু'হাত, লাজুক রাত, চিনি কি তোর, মুঠো কাঁচ |


জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত, জাগে রাত |

এই শ্রাবণ


এই শ্রাবণ ধুয়ে ফেলুক এই রাস্তা-ধুলো |
এই শ্রাবণ ভিজিয়ে দিক দীর্ঘ ছায়াগুলো |


এই শ্রাবণ নেভাক আগুন, এই ফুটপাতের রাত |
এই শ্রাবণ মনে পড়া পুরনো আঘাত |


জল জমেছে, বুকের ভিতর, রোদের অভাবে |
সময় এলে পড়বে চুঁয়ে, নিজের স্বভাবে |

আমি কাঁটাতারেই সুখী,
এই  কুয়াশাতে উঁকি দিয়ে,
রাজি মিথ্যে নিতে,
আসলে সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই |


এই শ্রাবণ নাম লেখা গাছের পাতার তলে |
এই শ্রাবণ মিশলো পুকুর ড্রেনের জলে |
এই শ্রাবণ, বাক্স বন্দী কিছু ইচ্ছে আছে |
এই শ্রাবণ স্যাঁতস্যাঁতে খুব আমার কাছে |


অবাধ যত্নে সামলে চলা ফুরিয়ে যাবার ভয় |
ভাবলি কেন দুঃখ পাব, দুঃখ আমার নয় |


আমি কাঁটাতারেই সুখী,
এই  কুয়াশাতে উঁকি দিয়ে,
রাজি মিথ্যে নিতে,
আসলে সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই |

Amar Janla diye...(Anjan Dutta)


Amar Janla diye...(Anjan Dutta)
আমার জানলা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায় |
একটু বর্ষা একটু গ্রীষ্ম একটুখানি শীত,
সেই একটুখানি চৌকো ছবি আঁকড়ে  ধরে রাখা
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী |
সেই পৃথিবীতে বিকেলের রং হেমন্তে হলুদ ,
সেই পৃথিবীতে পাশের বাড়ির কান্না শোনা যায় ,
পৃথিবীটা বড়ই ছোট আমার জানালায়
আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী |

সেই পৃথিবীতে বাঁচব বলেই যুদ্ধ করি রোজ |
একটুখানি বাঁচার জন্য হাজার আপোষ |
সেই পৃথিবীর নাম কোলকাতা কি ভারত জানি না ,
তুমি তোমার পৃথিবীর নামটা জানো কি?
তুমি বলবে আমার বেনিয়া পুঁকুর, তোমার বেহালা |
তুমি গন্ডি কেটে দেখিয়ে দেবে পশ্চিম বাংলা |
হয়ত কেরালার আঁকাশ এর একটু বেশি নীল ,
তবু সেটাও কি নয় আমার পৃথিবী?

আমার জানলা দিয়ে যায়না দেখা ইসলামবাদ  |
শুধু দেখি আমি রোজ আমার পাশের বাড়ির ছাদ |
একটা হলদে শাড়ী শুকোচ্ছে আজ মজার রংটা নীল ,
আজ পৃথিবীটা বড়ই রঙীন |

কেউ জানলা খুলে এলাবামায় বাংলা গান ই  গায় |
কেউ পড়ছে কোরান বোসে তার জাপানি জানলায় |
তুমি হিসেব করে বলতে পারো প্যরিসের সময় ,
কিন্তু কার জানালায় কে কি দেখে হিসেব করা যায় কি বল?
মনের জানলা আছে ,
মনের জানলা দিয়ে তুমি বেড়িয়ে পরতে পারো ,
মক্সিকোতে বসে বাজানো যায় গিটার |
কোথায় তুমি টানবে বল দেশের সীমারেখা ,
আমার জানলা দিয়ে গোটা পৃথিবী |

তাই জানলা আমার মানেনা আজ ধর্মের বিভেদ ,
জানলা জাতীয়তাবাদের পরওয়া করেনা |
জানলা আমার পূব না পশ্চিমের দিকে খোলা
জানলা সেতো নিজেই জানেনা |

জানলা আমার সকালবেলায় শোনায় ভৈরবী ,
আর সন্ধে বেলায় শোনায় জনি কল্তরিন |
গানের সুরে রেষা রেশি দেশা দেশী নেই
আমার গানের জানলা গোটা পৃথিবী |

বিজলী বাতি


আমার দিন ফুরালে বিজলী বাতি,
কলম খোঁচায় গল্প পাতি,
তোমার শব্দে মাতামাতি,
মেঝেয় পিঁপড়ের চড়ুইভাতি |

বাইরের ঘরে আগুন গিলছে প্রাচীন ভুত,
প্রলাপ বকছে চীনের রাষ্ট্রদূত,
T.V-র পর্দায় সব কিছুই প্রস্তুত |

আমার বইয়ের তাকে জমছে ধুলো,
পথ হারাচ্ছে শব্দগুলো,
হঠাৎ তোমার কপাল ছুঁলো,
নাড়লে কড়া দরজা খুলো |

হালকা পায়ে ভাঙছে সিঁড়ি তোমার গান,
চামচ মাপছে চিনির পরিমাণ,
দেওয়ালে ঝুলছে আমার অভিমান |

আমার দিন ফুরালে বিজলী বাতি,
কলম খোঁচায় গল্প পাতি,
তোমার শব্দে মাতামাতি,
মেঝেয় পিঁপড়ের চড়ুইভাতি |

এখন অনেক রাত


এখন অনেক রাত,
তোমার কাঁধে আমার নিঃশ্বাস, আমি বেঁচে আছি তোমার ভালোবাসায় !
ছুঁয়ে দিলে হাত,
আমার বৃদ্ধ বুকে তোমার মাথা চেপে ধরে টলছি কেমন নেশায় !

কেন যে অসংকোচে অন্ধ গানের কলি,
পাখার ব্লেড-এর তালে সোজাসুজি কথা বলি !


আমি ভাবতে পারিনি, তুমি বুকের ভেতর ফাটছো, আমার শরীর জুড়ে তোমার প্রেমের বীজ !
আমি থামতে পারিনি, তোমার গালে নরম দুঃখ, আমায় দুহাত দিয়ে মুছতে দিও প্লিজ !


তোমার গানের সুর,
আমার পকেট ভরা সত্যি মিথ্যে রেখে দিলাম তোমার ব্যাগ-এর নীলে |
জানি তর্কে বহুদূর,
তাও আমায় তুমি আঁকড়ে ধরো, আমার ভেতর বাড়ছো তিলে তিলে !

কেন যে অসংকোচে অন্ধ গানের কলি,
পাখার ব্লেড-এর তালে সোজাসুজি কথা বলি !

আমি ভাবতে পারিনি, তুমি বুকের ভেতর ফাটছো, আমার শরীর জুড়ে তোমার প্রেমের বীজ !
আমি থামতে পারিনি, তোমার গালে নরম দুঃখ, আমায় দুহাত দিয়ে মুছতে দিও প্লিজ !

এখন অনেক রাত,
তোমার কাঁধে আমার নিঃশ্বাস, আমি বেঁচে আছি তোমার ভালোবাসায় !
ছুঁয়ে দিলে হাত,
আমার বৃদ্ধ বুকে তোমার মাথা চেপে ধরে টলছি কেমন নেশায় !

এখন অনেক রাত,
তোমার কাঁধে আমার নিঃশ্বাস , আমি বেঁচে আছি তোমার ভালোবাসায় !
ভালোবাসায় ....

ফিরিয়ে দেওয়ার গান


ভেবেছিলাম তোকে ফিরিয়ে দেবো আমি
ভেবেছিলাম ঘুরে তাকাবো না |
ভেবেছিলাম তোকে পুড়িয়ে ফেলবো আমি
ভেবেছিলাম উড়িয়ে দেবো ছাই |

কিচ্ছু পারলাম না, শুধু বাড়ল ওজন বুক
সুখী গাল বোঝে না, কবিদের অসুখ
পাতলা ঠোঁটের ডগায়, সাজানো গল্পের খই
তোকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত অবশ্যই... এভাবে

গাছপালার স্নেহ দিয়ে ঢাকা, থাক সে পথ ফাঁকা,
থাক তোর ডাকে সাড়া দেবো না, দেবো না, না, না |
শত বসন্তের আদরে যেই, রেখেছি বালিশে ঘুম
থাক পাতার ভাঁজে রাখা, আমার এই ভালো লাগা |

আমাকে ঘুড়ি ভেবে ওড়াস না,
নরম আঙুল কেটে যাবে
উপড়ে নেবো নিজেকে |

ভেবেছিলাম তোকে নিভিয়ে ফেলবো আমি
ভেবেছিলাম তারা ফোটাবো না,
ভাল হত পেলে সময় অফুরন্ত,
ফুরিয়ে যায়, ফিরিয়ে দেওয়া গান |

কেন ভাঙছে আকাশ, আমি ভাঙছি না,
হয়ত তোর ভেতরেও একই অবস্থা |

পাতলা ঠোঁটের ডগায়, সাজানো গল্পের খই
তোকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত অবশ্যই... এভাবে

গাছপালার স্নেহ দিয়ে ঢাকা, থাক সে পথ ফাঁকা,
থাক তোর ডাকে সাড়া দেবো না, দেবো না, না, না |
শত বসন্তের আদরে  যেই, রেখেছি বালিশে ঘুম
থাক পাতার ভাঁজে রাখা, আমার এই ভালো লাগা |

আমাকে ঘুড়ি ভেবে ওড়াস না,
নরম আঙুল কেটে যাবে
উপড়ে নেবো নিজেকে |

বুঝবি না, তোর ক্ষতয় হাত বোলালে
জানবি না, কেন যে চোখ ঢাকি
বুঝবি না, কেন ওপাশ ফিরে শুলে
জানতে চাস না, কেন এভাবে থাকি

কেন প্রশ্ন এড়াস, আমি ঠকব না,
বিশাল ফারাক আছে, তা কি বুঝিস না?

পাতলা ঠোঁটের ডগায়, সাজানো গল্পের খই
তোকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত অবশ্যই... এভাবে

গাছপালার স্নেহ দিয়ে ঢাকা, থাক সে পথ ফাঁকা,
থাক তোর ডাকে সাড়া দেবো না, দেবো না, না, না |
শত বসন্তের আদরে  যেই, রেখেছি বালিশে ঘুম
থাক পাতার ভাঁজে রাখা, আমার এই ভালো লাগা |

আমাকে ঘুড়ি ভেবে ওড়াস না,
নরম আঙুল কেটে যাবে
উপড়ে নেবো নিজেকে |

যে কটা দিন তুমি ছিলে পাশে


যে কটা দিন তুমি ছিলে পাশে,
কেটেছিলো নৌকার পালে চোখ রেখে |
আমার চোখে-ঠোঁটে-গালে তুমি লেগে আছো |


যেটুকু রোদ ছিলো, লুকোনো মেঘ,
দিয়ে বুনি তোমার শালে ভালোবাসা  |
আমার আঙ্গুল-হাতে-কাঁধে তুমি লেগে আছ |


তোমার নখের ডগায় তীব্র প্রেমের মানে,
আমিও গল্প সাজাই তোমার কানে কানে,
তাকিয়ে থাকি হাজার পর্দা ওড়া বিকাল,
শহর দুমড়ে মুচরে থাকুক অন্য দিকে,
ট্রাফিকের এই cacophony আমাদের স্বপ্ন চুসে খায় |


যেভাবে জলদি হাত মেখেছে ভাত,
নতুন আলুর খোসার এই ভালোবাসা |
আমার দেওয়াল ঘড়ি-কাঁটায় তুমি লেগে আছ |


যেমন জড়িয়ে ছিলে ঘুম ঘুম বরফ মাসে ,
আমিও খুঁজি তোমায় আমার আশেপাশে,
আবার সন্ধ্যেবেলা ফিরে যাওয়া জাহাজ বাঁশি,
বুকে পাথর রাখা মুখে রাখা হাসি,
যে যার নিজের দেশে আমরা স্রোত কুড়োতে যাই |


যেভাবে জলদি হাত মেখেছে ভাত,
নতুন আলুর খোসার এই ভালোবাসা |
আমার দেওয়াল ঘড়ি-কাঁটায় তুমি লেগে আছ |

আমার শহর- চন্দ্রবিন্দু


সুতানুটি ছুটোছুটি টালি থেকে টালা,
ওল ঢোল এগরোল বেলফুল মালা,
লেনিনের পাদদেশে প্রণামীর থালা,
তবু পরি ঘোরে ভিক্টোরিয়ায় |
যাক উড়ে যাক, দুধে ভাতে থাক,
কলকাতা কলকাতাতেই, আমার শহর |


একদা ধ্যাধধেরে গোবিন্দপুরে,
বিকালে গোরাদের ব্যান্ড ভুল সুরে,
বাবুরা বেড়ালের বিয়েবাড়ি ঘুরে,
তাল খাবে কাল বেপাড়ায় |
জুরি গাড়ি হাঁক, জমে যাবে জাঁক |
কলকাতা কলকাতাতেই, আমার শহর |


রাতে মশা দিনে মাছি, নেচে মরে খ্যাপা,
নন্দন নলবনে পুলিশের হ্যাপা,
বাবুঘাটে একা হাঁটে আদার ব্যাপারী,
তবু জাহাজের খোঁজে ভেসে যায় |
যাক ভেসে যাক, দুধে ভাতে থাক,
কলকাতা কলকাতাতেই, আমার শহর |


সেকালে জল খেতো ঘোড়াটানা ট্রামে,
কেরানি হাতি কেনে পাতি ইনকামে,
ষোড়শী বিয়ে করে আনে বুড়ো ভামে,
সং সাজে ছাদ্‌না তলায় |
সং থেকে বং, অনাবাসী ঢং,
কলকাতা কলকাতাতেই, আমার শহর |


ঝালে ঝোলে অম্বলে আমাশার গুঁতো,
বাইপাসে একা হাঁসে প্রগতির ছুতো,
জোড়াসাঁকো সুখে থাকো গুরুদেবতুতো হয়ে,
ন্যাড়া যাবে বেলঘরিয়ায় |
বেলে ধরে পাক, কত খাবে কাক,
কলকাতা কলকাতাতেই, আমার শহর |

রূপকথারা রা রা রা


শহরে হঠাৎ আলো চলাচল, জোনাকি নাকি স্মৃতি দাগে !
কাঁপছিল মন, নিরালা রকম, ডাকনাম নামল পরাগে |

কে হারায় !
ইশারায় !


সারা দাও, ফেলে আসা গান |
রূপকথারা রা রা রা রা,
চুপকথারা রা রা রা রা ,
ফুরফুরে এক রোদের জন্মদিন |
মনপাহাড়া রা রা রা,
বন্ধুরা রা রা রা রা,
আজ খোলা আল্টুসি canteen |


বোবা ইমারত, অকুলানো পথ, শালিকের সত্ অনুরাগে |
বলেছে আবার, জানলার ধার, হাতে চিঠি জাগে |

কে হারায় !
ইশারায় !


সারা দাও, ফেলে আসা গান |
রূপকথারা রা রা রা,
চুপকথারা রা রা রা রা ,
ফুরফুরে এক রোদের জন্মদিন |
মনপাহাড়া রা রা রা,
বন্ধুরা রা রা রা রা,
আজ খোলা আল্টুসি canteen |

রোদেলা বেলার, কবিতা খেলার, শীতঘুম বইয়ের ভাঁজে |
বেসামাল ট্রাম, মুঠোর বাদাম, জালাতনে রাঙচিলটা যে,
ঝরে একাকার, বালি-ধুলো তার, তুলো তুলো বেখেয়াল |


হঠাৎ শহর, পুরনো মোহর, মহড়া সাজানো আবডালে |
লজ্জা চিবুক, বানভাসি সুখ, সুখ-সারি গল্প নাগালে |


কে হারায় !
ইশারায় !


সারা দাও, ফেলে আসা দিন |
রূপকথারা রা রা রা,
চুপকথারা রা রা রা রা ,
ফুরফুরে এক রোদের জন্মদিন |
মনপাহাড়া রা রা রা,
বন্ধুরা রা রা রা রা,
আজ খোলা আল্টুসি canteen |

Zindagi Na Milegi Dobara 2011


Poem 1 - Apne Hone Par Mujhko Yaqeen Aa Gaya

Pighle neelam sa behta hua ye sama
Neeli-Neeli si khamoshiyaan
Na kahin hai zameen, na kahin Aasmaan
Sarsarati hui tehniyaan, pattiyaan
Keh raheen hai ki bas ek tum ho yahaan
Sirf main hoon
Meri saansein hain aur meri dhadkanein
Aisi gehraiyaan, aisi tanhaiyaan
Aur main sirf main
Apne hone par mujhko yaqeen aa gaya

Poem 2 - Yeh Jaane Kaisa Raaz Hai

Ik baat honthon tak hai jo aayi nahin
Bas ankhon se hai jhaankti
Tumse kabhi, mujhse kabhi
Kuch lafz hain woh maangti
Jinko pahen ke honthon tak aa jaaye woh
Awaaz ki baahon mein baahein daalke ithlaaye woh
Lekin jo yeh ik baat hai
Ehsaas hi ehsaas hai
Khushboo si hai jaise hawa mein tairti
Khushboo jo be awaaz hai
Jiska pata tumko bhi hai
Jiski khabar mujhko bhi hai
Duniya se bhi chhupta nahin
Yeh jaane kaisa Raaz hai

Poem 3- Dil Aakhir Tu Kyun Rota Hai

Jab jab dard ka baadal chhaya
Jab gham ka saya lehraaya
Jab aansoo palkon tak aaya
Jab yeh tanha dil ghabraaya
Hum ne dil ko yeh samjhaya
Dil aakhir tu kyun rota hai?
Duniya mein yun hi hota hai
Yeh jo gehre sannate hain
Waqt ne sabko hi baante hain
Thoda gham hai sabka qissa
Thodi dhoop hai sabka hissa
Aankh teri bekaar hi nam hai
Har pal ek naya mausam hai
Kyun tu aise pal khota hai
Dil aakhir tu kyun rota hai

Poem 4 - Toh Zinda Ho Tum

Dilon mein tum apni betabiyan leke chal rahe ho.
Toh zinda ho tum!
Nazar mein khwaabon ki bijliyan leke chal rahe ho
Toh zinda ho tum!

Hawa ke jhonkon ke jaise aazad rehna seekho
Tum ek dariya ke jaise, leharon mein behna seekho
Har ek lamhe se tum milo khole apni baahein
Har ek pal ek naya samaa dekhiye

Jo apni aankhon mein hairaniyan leke chal rahe ho
Toh zinda ho tum!
Dilon mein tum apni betabiyan leke chal rahe ho
Toh zinda ho tum!

আমাদের জন্য - সুমন চট্টোপাধ্যায়


আমাদের জন্য - সুমন চট্টোপাধ্যায়

গড়িয়াহাটার মোড়, মিনি মিনি বাস বাস,
বাসের টারমিনাসে, মন মরা সারি সারি
মুখ চোখ নাক হাত, রোগা রোগা চেহারার কনডাক্টার
সব আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
চৌরঙ্গীর আলো এবং লোড শেডিং,
পার্ক স্ট্রীট জমকালো, কাগজে হেডিং।
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
বেদম ট্র্যাফিক জ্যাম, ঠান্ডা স্যালামি হ্যাম,
চকলেট, ক্যাডবেরি, মাদার ডেয়ারী,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
বাজারের দরাদরি, রুটি ভাত তরকারি,
সা নি ধা পা মা গা রে সা মাদার টেরেসা,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
কুঁয়াশা কুয়াশা কাদা, ভোর বেলা গলা সাধা,
সারেগা রেগামা গামা গামাপা মাপাধা পাধা পাধানি ধানিসা–
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।


ফুটবোর্ডে ঝুলে যাওয়া, অথবা লেডিজ সীট-
তাক্ করে উদাসীন, আকাশ কুসুম টিক্ টিক্-
টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যাজার মানুষ, খুচ্-খুচরো পয়সা নেই
আমাদেরই জন্য। নেই আমাদেরই জন্য।
সা গা পা ধানি ধানি পাধানি, সানিধা নিধা পাগা সাগা পাধানি,
বছরে তিরিশবার চিত্রাঙ্গদা আর শ্যামা
শাপ-মোচনের অশ্রু মোচন, আমাদেরই জন্য।
গাজনের ছয়লাপ, আধুনিক কিং খাপ,
কিং সাইজ ভজনের শিবের গাজন,
আমাদেরই জন্য।
সংস্কৃতির ঢাক, তে রে কে টে তাক্ তাক্
দমাদম দমাদম কৃষ্টি বিষম
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
পাতাল রেলের খাল, ভাঙাচোরা দিন কাল,
পদে পদে ঠোক্কোর, বকর বকর,
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।


আপিস কাছারি রাইটার্স বিল্ডিং ডিং
বিনয় বাদল দিন্ দিনেশের নাম ধার,
ধর্মতলার মোড়ে লেন দেন নিন দিন লেনিন
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
সুনীল গাঙ্গুলীর দিস্তে দিস্তে লেখা,
কত কবি মরে গেল চুপি চুপি একা একা,
আমাদেরই জন্য। শুধু আমাদেরই জন্য।
সিনথেসাইজারের টাপুর টুপুর
সুমন চাটুজ্যের এক ঘেয়ে সুব
নয় আমাদেরই জন্য। নেই আমাদেরই জন্য।
সত্যজিতের ছবি, শক্তির পদ্য,
লিট্ল্ ম্যাগাজিনের লেখা অনবদ্য।
গ্রুপ থিয়েটার আর একাদেমি সমাচার,
একুশে আইন আর গণেশ পাইন।
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।
কেরানী ও অফিসার পাটোয়ার নেতা,
ফুটপাথে ছোটো বড় ক্রেতা বিক্রেতা,
বেশ্যা দালাল, টিকিধারী পুরোহিত,
ট্যাকসি চালক আর পুলিশের খিট্ মিট্
আমাদেরই জন্য। সব আমাদেরই জন্য।


আমাদের জন্যেই ভোরের আকাশ,
লালচে পূবের কোণে আসে আশ্বাস।
আমাদের জন্যেই মিষ্টি সকাল,
নীলের গভীরে হাসে একা মহাকাল।
আমাদেরই জন্যেই বৃষ্টি এসেছে,
দারুণ প্রাণের টানে দুকুল ভেসেছে।
মৌমাছি খুঁজে মরে আমাদেরই মধু,
আকাশ ডাকছে আজ আমাদেরই শুধু।
সমুদ্রে ঢেউ ভাঙে আমাদেরই নামে,
শ্রমিকের দেহ ভেজে আমাদেরই ঘামে।
যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া,
জীবনের কথা বলা গানের মহড়া যেন
সব্বার জন্যে, সব্বার জন্যে।


আমরাই কলকাতা আজ আগামীর,
আমরাই গান গাই আমির তুমির,
ইট কাঠ কংক্রীট শ্যাওলা ময়লা,
প্রতিটি নতুন গান মাসের পয়লা।
আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর
তোমাকে শুনিয়ে আমি যাব বহু দূর।
ফিরেও আসবো আমি তোমার সুবাসে,
থাকবো তোমার বুকে আর আসে পাশে।
আমাকে পড়লে মনে খুঁজো এইখানে,
এখানে খুঁজছি আমি জীবনের মানে।

একটু পথ তুমি এসো


একটু পথ তুমি এসো আর একটু আসি আমি,
দেখবে হটাত মানে খুঁজে পাবে আমাদের পাগলামি...।
একটু পথ তুমি এসো আর একটু আমি...।।
তুমি এসো তুমি হেঁসো যত খুশি বেশও ভাল,
গতকাল থাক একাই ধুসর আগামীটা জমকালো ।
তুমি খোঁজো আমি খুঁজই দুজনেই চোখ বুজি ,
দেখত স্পষ্ট দেখা যায় কিনা সুখের সালতামামি ।।
একটু পথ তুমি এসো আর একটু আমি ......।।
রাগ ভোলও রাগ ভুলি সব দরজা জানলা খুলি ,
বাতাস উল্টে এলো করেদিল ক্যানভাসে রঙ তুলি ।।
তুমি ছারা আমি ছারা সব ভাবনা আত্মাহারা ,
যদি ফিরে পাওয়া যায় বন্ধুতা নয় ভুল পথে হাঁটলামই ...।
একটু পথ তুমি এসো আর একটু আমি ...।।
একটু পথ তুমি এসো আর একটু আসি আমি ...।
দেখবে হটাত মানে খুঁজে পাবে আমাদের পাগলামি ...।।
একটু পথ তুমি এসো আর একটু আমি ......।।

Rangmilanti....

পারিনি আমি পারিনি....

পারিনি শেখাতে তোকে সত্যি ভাল কথা কোন গাইতে একটা সত্যি ভাল গান...।
পারিনি বোঝাতে তোকে ঈশ্বর আল্লা একই ভালোবাসার নাম...।
শুধু পারি খুব সহজে তোকে বুজিয়ে দিতে আমি দেশপ্রেমের নাম পখরান......।। 

পারিনি ঢোকাতে তোর ছোটো মনে মাথায় বড়ো হয়ে ওঠার সম্বল......।
পারিনি শেখাতে তোকে মাঝে মধ্যে দিতে একতা ছোটো গাছের গোরায় একটু জল......।
শুধু পারি খুব সহজে তোকে বুজিয়ে দিতে আমি হকার মানেই জঞ্জাল......।। 

পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি...............।।
পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি...............।। 

পারিনি সহজে তোকে বুজিয়ে দিতে কাদের দেশ ছিল আমেরিকা .......। 
পারিনি সহজ করে জানিয়ে দিতে কেন ভাঙা হল বার্লিনের দেওয়ালটা......। 
শুধু পারি খুব সহজে তোর মনে গেঁথে দিতে বেশী টাকা মানেই ভাল থাকা ......।।

পারিনি সহজে কেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে গান্ধীজ......। 
পারিনি চেনাতে তোকে সে তোর বন্ধু নাকি সে তোর বাড়ির ঝি ......। 
তাই পারছিনা বোজাতে কেন গলায় দড়ি দিল চোদ্দ বছরের টুকটুকি......।। 

পারিনি আমি পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি.........।। 
বোজাতে পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি পারিনি.........।। 
Anjan dutta

বন্ধু তোমার


আকাশটা আজ বড়ই নীল, আজ আমায় পিছু ডেকোনা
যে রঙ তোমার চোখে সামিল,  সে চোখ ভিজিয়ে দিওনা
বন্ধু তোমার আমি তাই অন্য দাবি রেখনা  ...।।
ডেকো না............।।
বন্ধুতের হয়না পদবী, বন্ধু তুমি কেঁদোনা
বন্ধু সবুজ চিরদিন , বন্ধুতের বয়স বারে না
বন্ধু তোমার আমি তাই আত্মীয়তায় বেধনা ...।।
কেঁদো না............।।
হয়তো তোমার আনলায় থাকবে না আমার জামা
জুলবে না তোমার বারান্দায় আমার পাঞ্জাবি পাজামা
তবু মনের জানালায় অবাদ আনাগোনা ...।।
দুজনা...............।।
হটাত চায়ের সুগন্ধে, হটাত কোনও বইয়ের পাতায়
হটাত মনের আনন্দে, আপন মনে কবিতায়
হটাত খুঁজে পাওয়া সুখ, চার দেওয়ালে বেঁধো না...।।
ধরে রেখনা.........।।
আকাশ হয়ে যাবে ফ্যাঁকাসে, তবু আমাদের ঘুড়ি
উড়বে মনের আকাশে, অনন্ত ছেলেমানুসি
সেই ছেলেমানুসিটাকে ডেকো না ...।।
পিছু ডেকো না......।।
বন্ধুতের হয়না পদবী, বন্ধু তুমি কেঁদোনা
বন্ধু সবুজ চিরদিন , বন্ধুতের বয়স বারে না
বন্ধু তোমার আমি তাই আত্মীয়তায় বেধনা ...।।
কেঁদো না............।।

anjan dutta

বাড়লে বয়স সবাই মানুষ হয় কি - মহীনের ঘোড়াগুলি


বাড়লে বয়স সবাই মানুষ হয় কি - মহীনের ঘোড়াগুলি

বাড়লে বয়স সবাই মানুষ হয় কি?
শুনলে কথা মানুষ চেনা যায় কি?
চেনা সহজ নয়, চিনতে লাগে ভয়!
বলি তায় মানুষ চেনা দায়!
হায়রে বলি তায় মানুষ চেনা দায়।

হাত বাড়লেই বন্ধু পাওয়া যায় না !
বাড়ালেই হাত বন্ধু সবাই হয় না!
বেড়িয়ে অনেক পথ নিলাম এই শপথ!
আমি না শত্রু  হব তার!

হাসলে পরে রসিক সবাই হয় কি?
কান্না এলেই কান্তে পারা যায় কি?
হাসির নিচে কান্না, অনেক হল আর না!
মন খুলে হেসে যাবই তাই!
হাইরে মন খুলে হেসে যাব তাই !

আমার দক্ষিন খোলা জানলায়


আমার দক্ষিন খোলা জানলায়

মাঘের এ অন্তরঙ্গ দুপুর বেলায়
না শোনা গল্প পুরোনো মনে পড়ে যায়
এক দমকা হাওয়ায় ।।।

আমার দক্ষিন খোলা জানলায়

খোলা জানলায়
খোলা জানলায়
উদার বন্ধু বাতাস
জাগায় আমার হৃদয়
ভালোবাসায়
খোলা জানলায়
উদার বন্ধু বাতাস
জড়ায় মায়ায়
ভালো লাগায়

আমার উত্তর খোলা জানলায়
বাড়ে বয়স
যা কিছু স্মৃতি স্বত্তা
কাঁপে দারুন
বাড়ে বয়স ।।

তাই দক্ষিন খোলা জানলায়
মাঘের এই অন্তরঙ্গ দুপুর বেলায়
না শোনা গল্প পুরোনো মনে পড়ে যায়
এক দমকা হাওয়ায়

মাঘের এই একান্ত দুপুর বেলায়
যা কিছু প্রিয় ভালোলাগা মনে পড়ে যায়
এক দমকা হাওয়ায়

দক্ষিন খোলা জানলায়।।